| | বৃহস্পতিবার, ২৯শে পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি |

নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস

প্রকাশিতঃ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৩, ২০২২

somoy news

নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নওগাঁয় সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

কয়েকদিন ধরেই ঘন কুয়াশা পড়ছে। শৈত্যপ্রবাহ আর পৌষের হাড় কাঁপানো তীব্র শীত জেঁকে বসেছে এ জেলায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। এতেই কাঁপছে উত্তরের এ জনপদ। দুপুর নাগাদ কিছুটা হালকা রোদের দেখা মিললেও শেষ বিকেল থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ফলে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও কর্মজীবী সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়। অনেকেই সকাল অথবা সন্ধ্যায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কুয়াশায় ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট। প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষেরা শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন শহরের বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

এদিকে, শৈত্যপ্রবাহে জেলার পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেই সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। গত ৩ দিনে প্রায় অর্ধ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।

উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার দেবাশীষ রায় বলেন, এ সময়টা বয়স্ক ও শিশুদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরে থাকতে হবে। যথাসম্ভব বাড়ির বাইরে না বেরোনোই ভালো। বাড়ির বাইরের খাবার, বাসি খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।

উপজেলার নজিপুর পৌর শহরের অটো ভ‍্যানচালক আল আমিন বলেন, গত কয়েকদিন থেকেই প্রচণ্ড শীত। কয়েক বছরের মধ্যে মনে হয় এমন শীত পড়েনি। শীতে রিকশা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যাত্রীও কমে গেছে। তেমন ভাড়াও হচ্ছে না।

উপজেলার চকনিরখিন প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীর অভিভাবক দীপালী রানী বলেন, এই তীব্র শীতে শিশুরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। কুয়াশা ঠেলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে আমাদেরও খুব কষ্ট হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার এ জেলার তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রোববার তা কমে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। সোমবার তা কমে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এটিই চলতি মৌসুমে এ জেলার সর্বনিম্ন তপমাত্রা। আগামী দুই থেকে তিন দিন এ অবস্থা চলতে থাকবে। এরপর স্বাভাবিক ভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গাফফার বলেন, উত্তরাঞ্চলের তীব্র শৈত‍্যপ্রবাহে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। এ মুহূর্তে উপজেলায় ইউপি ইলেকশনের প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি আগামী ৫ তারিখের পর পরই উপজেলা পরিষদ ও আমার ব‍্যক্তি উদ‍্যােগে শীতবস্ত্রের সহায়তা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দুই হাজার ৮৪০ পিস কম্বল এসেছে। যার মধ‍্য থেকে এতিমখানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৫ লক্ষ ৬৩ টাকার কম্বল অসহায় মানুষের মাঝে শিঘ্রই বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

Matched Content

সময় নিউজ ডট নেট এর কোনো সংবাদ,তথ্য,ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares