| | শনিবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি |

আসছে শীত, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিতঃ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩১, ২০২১

somoy news

সময় নিউজ ডেস্ক :দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। দেশজুড়ে ঝরছে শিশির। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে লেপ বানানো আর কম্বল কেনার হিড়িক পড়েছে। বিক্রি শুরু হয়েছে শীতের পোশাক। বিক্রেতারা শীতের পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছে। আর এই শীতকে সামনে রেখে করোনাভাইরাসের নতুন আঘাতের কথাও উঠে এসেছে। শীতে আবার করোনাভাইরাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘দেখা যাচ্ছে যখনই ‘শীতকাল আসছে, পৃথিবীর সব দেশেই আবার করোনাভাইরাস দেখা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড বা ইউরোপের দেশগুলোয় এর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কাজেই বাংলাদেশের সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি অনুরোধ করছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শীতকাল এলেই একটু ঠান্ডা লাগে, সর্দি-কাশি হয়। আর এটা হলেই এই করোনাভাইরাস সাইনাসে গিয়ে বাসা বানাতে পারে। কাজেই সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, খাদ্য তালিকায় ‘ভিটামিন সি’ যাতে বেশি থাকে; আর যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি এবং তরিতরকারি বেশি খেতে হবে।’

এদিকে দেশের চিকিৎসক, ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আসছে শীতে করোনাভাইরাস নতুন কোনো সংকট বয়ে আনতে পারে। তারা মনে করছেন, করোনার মৃতু্য ও শনাক্তের হার কমে আসায় মানুষে মধ্যে যে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে, তা নতুন বিপদের জন্ম দিনে পারে। এ ছাড়া যে হারে দেশের মানুষ পর্যটন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এতে সংকেত খুব ভালো নয়। তাই সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

রোগতত্ত্ব্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর এ এস এম আলমগীর বলেন, একমাত্র উপায় সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। জনসমাগম

এড়িয়ে চলা। প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে শীতে পর্যটন স্থানগুলোতেও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

কোনো ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে টেস্ট করিয়ে আইসোলেশনে থাকতে হবে। কোনোভাবেই টেস্ট না করিয়ে ঘোরাফেরা করা যাবে না। এতে করে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া টিকা নিতে হবে সবাইকে। কোনো ধরনের দোটানায় ভোগা যাবে না। টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তবে টিকা রোগীর শরীরের অবস্থা খারাপ হতে দেয় না।

শেরেবাংলা নগরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, সবাইকে নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে। নিজেকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে মাস্ক পরতে হবে। সবাই যদি নিজের কথা চিন্তা করে, তাহলে করোনামুক্ত থাকা সম্ভব। মূলত জীবন পরিচালনার জন্য যা দরকার তার বাইরে কোনো কাজ বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া আপাতত বন্ধ রাখাই ভালো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ডা. সমীর কান্তি বলেন, ‘শীতে ভাইরাসজনিত রোগ বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে গতবার শীতে করোনার প্রকোপ কেন বাড়েনি, জানি না। তবে বেশকিছু দেশে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাই এবার শীতে একটা সুযোগ থাকতেও পারে। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আবার জুলাই-এপ্রিলেও বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী জুলাই-এপ্রিলের আগে সবাই টিকার আওতায় চলে আসবে। এতে মৃতু্য হার কমতে পারে। কিন্তু এখন আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, এতে মনে হয় না গত বছরের মতো এবারের শীতে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘যা মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি, তা মানতে হবে। কোনো হাই টেকনোলজি বিশ্বে নেই। মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে। স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। ভিড় এড়াতে হবে। তিন ফুট দূরত্ব মানা সম্ভব না হলেও নূ্যনতম দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব। এগুলো না করলে শীতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো করোনার প্রকোপ নিয়ে একটা অনীহা লক্ষ্য করা যায়। এই চিন্তাধারা থেকে সরে আসতে হবে।

Matched Content

সময় নিউজ ডট নেট এর কোনো সংবাদ,তথ্য,ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares