| | বুধবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি |

হালুয়াঘাটে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মদিন পালিত

প্রকাশিতঃ ৭:০০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৮, ২০২১

somoy news

এম,এ মালেক হালুয়াঘাট : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার ( ৮ আগষ্ট ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তর কতৃক অডিটরিয়াম হল রুমে আলোচনা সভা ও স্মতিচারণ অনুষ্ঠান এবং অসচ্ছল নারিদের মাঝে সেলায় মেশিন বিতরণ করা হয়েছে ।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্নদিনের কেক কাটেন , ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং ।

বিশেষ অতিথী ছিলেন , উপজেলা চেয়ারম্যান মাহামুদুল হক সায়েম ,পৌরসভার মেয়র খায়রুল আলম ভূঞ্চা , সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) তৌহিদুর রহমান , হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: আমিনুল কবির তরফদার , উপজেলা আওয়ামীলীগের ( ভারপ্রাপ্ত ) সভাপতি কবিরুল ইসলাম বেগ , ( ভারপ্রাপ্ত ) সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ , যুম্ন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আনোয়ার খোকন , অফিসার ইনর্চাজ শাহীনুজ্জামান খান সহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বৃন্দ, এবং ভিবিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।

উল্লেখ্য , ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে নিষ্ঠুর, বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে তিনি শাহাদত বরণ করেন। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। বাল্যকাল থেকে যে মানুষটিকে জীবনসঙ্গী করে আমৃত্যু সাহচর্যের পণ করেছিলেন তিনি বিদায়ও নিলেন তার সঙ্গে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপন করবে। এবার এ দিবসে প্রথমবারের মতো বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা পদক দেবে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আজ রোববার দেশের ৫ বিশিষ্ট নারীকে এ পদক দেওয়া হবে। আমৃত্যু মানবিক ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ডাকনাম ছিল রেনু। সারাজীবন চলেছেন সাধাসিধে ভাবে।

নিজের চেয়ে পরিবারের কথা ভেবেছেন বেশি। বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গী হিসেবে সংগঠনের কথাও ভাবতে হয়েছে তাঁকে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে স্বজনদের সঙ্গে বেড়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ৩ বছর বয়সে বাবা শেখ জহুরুল হক ও ৫ বছর বয়সে মা হোসনে আরা বেগম পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময় দাদা শেখ কাসেম চাচাতো ভাই শেখ লুৎফর রহমানের ছেলে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে দেন। বিয়ের পর সামাজিক রীতিনীতির কারণে স্কুলের বদলে গৃহশিক্ষকের কাছে লেখাপড়া করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গৃহী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিবারের সদস্যদের প্রতি সব সময় দায়িত্বশীল ছিলেন। জীবদ্দশায় স্বামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে লড়াই-সংগ্রামের প্রেরণা জুগিয়েছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ তৎকালীন সব সংগ্রামে তিনি গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সব কষ্ট সহ্য করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামময় জীবনে তিনি যেমন পরিবারের হাল ধরেছিলেন পরম মমতায়, তেমনি সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন যথেষ্ট সাহসিকতার সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মহীয়সী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব দিকনির্দেশনা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সাহস জোগাতেন। কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ও নির্দেশনা নেতাকর্মীদের জানাতেন। ১৫ আগস্ট বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে হত্যাকারীদের এই জঘন্য কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিপুল বিক্রমে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বঙ্গবন্ধুর সব সাহসী পদযাত্রায় বেগম মুজিব ছিলেন সক্রিয় সহযাত্রী।

Matched Content

সময় নিউজ ডট নেট এর কোনো সংবাদ,তথ্য,ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares