| | সোমবার, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি |

​গাজায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হল ইসরায়েল-হামাস

প্রকাশিতঃ ৫:৩০ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০২১

somoy news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :দশ দিনের যুদ্ধে প্রায় আড়াইশ প্রাণক্ষয়ের পর মিশরের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসানে রাজি হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি দল হামাস। উভয় পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে বলে বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে। মিশরের এক প্রস্তাব নিয়ে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠকে বসেছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা মিশরের প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি হয়ে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি হবে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং নিঃশর্ত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এটাই বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধ দেখতে চায় না। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও কখন থেকে তা কার্যকর হবে, সেটা বলেনি।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে হামাস জানিয়েছে। ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়াকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছে হামাস। দলটির এক নেতাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, এটা ফিলিস্তিনি জনগণের ‘বিজয়’ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘পরাজয়’।

হামাস নেতারা এটাও বলেছেন, ঘোষণা এলেও যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুটিনাটি চূড়ান্ত না হওয়া অবধি তারা সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবুল ফাত্তাহ সিসিকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষ প্রতিপালন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে যাচ্ছেন। মিশরের পাশাপাশি কাতার ও জাতিসংঘ দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি রাজি করানোর ভূমিকায় ছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক দূত ডেনিস রোস। তিনি বলেছেন, এই ধরনের যুদ্ধবিরতি স্বল্প সময়ের জন্য শান্তি আনতে পারবে হয়ত। তার ভাষ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত গাজার নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের হাতে রকেট থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি সুদূরপরাহত।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজা থেকে রকেট হামলার খবর দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানিয়েছে ইসরায়েলির বিমান হামলার খবর। এবার সংঘাতের শুরুটা হয়েছে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে। এরপর ইসরায়েলের ‘জেরুজালেম দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পূর্ব জেরুজালেমের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুই অংশের একটি গাজায় দেখা দেয় বিক্ষোভ।

গত ১০ মে গাজাবাসী ফিলিস্তিনিরা বিশেষ করে হামাস রকেট হামলার পর তার জবাবে সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানায় ইসরায়েল।ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলার পাশাপাশি গাজা সীমান্তে কামান-ট্যাংক থেকেও গোলা বর্ষণ করে। এতে অন্তত নারী ও শিশুসহ ২৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। অন্যদিকে হামাসের ছোড়া রকেট হামলায় ১২ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবরও এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করেই সংঘাত চলছিল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা বন্ধ না করার কথাই বলা হচ্ছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবারও বলেছিলেন, তার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত হামাসের উপর হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবারও গাজার উত্তরে হামাসের স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল শতাধিক বিমান হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এর মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ মিশর দুই পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর উদ্যোগ নিয়ে আসে। ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করতে রাজি হচ্ছেন বলেও মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মিশরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার পর দুই পক্ষই নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতি করতে রাজি হয়েছে। তবে আলোচনা এখনও চলছে। এরপর রাতে দুই পক্ষেরই রাজি হওয়ার ঘোষণা আসে।

Matched Content

সময় নিউজ ডট নেট এর কোনো সংবাদ,তথ্য,ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares